হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৬৫৭

হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯ মাসের শিশুসন্তান। শোকে স্তব্ধ বাবা। মায়ের কান্না।

হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) দেশে এক শিশু মারা গেছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৪২ জন।

আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্যগুলো জানানো হয়েছে। হামের উপসর্গে শিশুটি খুলনায় মারা গেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৬৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৩ শিশু। মোট ৬৫৭ শিশু মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৮৭ হাজার ৯২৯ শিশুর। আর এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৫২৩ শিশু। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭২ হাজার ৪০৫ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৬৮ হাজার ৭৮২ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৬ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৩৮ জন। আর সুস্থ হয়েছে ৯০৪ জন।

বিশ্বকাপ মিশনের আগে নেট দুনিয়ায় ঝড় তুলল মেসির বিশেষ বার্তা

শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। আগামীকাল ভোরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে দলের সবার প্রতি ঐক্য ও সংহতির বার্তা দিলেন অধিনায়ক এবং সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে শেষ মুহূর্তে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে আর্জেন্টিনাকে। অনুশীলনে মনোযোগী ছিলেন আলবিসেলেস্তেদের ফুটবলাররা। কোচিং স্টাফরাও ব্যস্ত সময় পার করেছেন। সবাই যখন অনুশীলনে ব্যস্ত, ঠিক তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দলের একটি ছবি শেয়ার করেন মেসি। অনুশীলন মাঠে পুরো দলকে একটি বৃত্তে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সেই ছবিতে। দলের ছবির সঙ্গে আর্জেন্টিনার একটি পতাকা যুক্ত করেন মেসি। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘Together’ বা একসঙ্গে।

মেসির এই সংক্ষিপ্ত বার্তাকে বিশ্বকাপের আগে দলের ঐক্য ও পারস্পরিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বড় টুর্নামেন্টের শুরুতে খেলোয়াড়দের মধ্যে সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরতেই যে এই ফরোয়ার্ড এমন বার্তা দিয়েছেন তা বলা বাহুল্য। এদিকে স্টোরির পাশাপাশি জাতীয় দলের সঙ্গে নিজের কয়েকটি ছবিও পোস্ট করেছেন মেসি। ছবিগুলোর সঙ্গে কোনো ক্যাপশন দেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। সে ম্যাচের পরও সতীর্থদের মাঝে ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন মেসি। ম্যাচ শেষে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে খেলার বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘চলো এগিয়ে যাই, আগের চেয়ে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে।’

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে চলমান বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপে পড়েছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে বাকি দুটি ম্যাচে জর্ডান ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলবে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা।

ইসরায়েলের সঙ্গে ইইউর চুক্তি স্থগিতের তাগিদ স্পেনসহ তিন দেশের

ইসরায়েলের সঙ্গে ‘অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি’ স্থগিত করার বিষয়ে আলোচনা শুরুর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) তাগিদ দিয়েছে সদস্যদেশ স্পেন, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ড। ফিলিস্তিনের গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীর এবং লেবাননে চলমান পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশগুলো। তাদের ভাষ্য, এ অবস্থায় ইইউ আর ‘নিষ্ক্রিয় দর্শক’ হয়ে থাকতে পারে না।

গত মঙ্গলবার লুক্সেমবার্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস বলেন, এই তিনটি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্থগিত করার বিষয়টি আলোচনার তালিকায় রাখার অনুরোধ করেছে।

আলবারেস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইসরায়েলের মধ্যে করা অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিত করার বিষয়টি আলোচনা ও বিতর্কের জন্য যৌথভাবে অনুরোধ জানিয়েছে স্পেন, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ড।

আলবারেস আরও বলেন, ‘আমি আশা করি, প্রতিটি ইউরোপীয় দেশ মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে) ও জাতিসংঘের অবস্থানকে সমর্থন করবে। এর ব্যতিক্রম কিছু হলে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য বড় পরাজয় হবে।

গত সপ্তাহে ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসকে একটি যৌথ চিঠি দিয়েছে এই তিনটি দেশ। চিঠিতে তারা বলেছে, ইসরায়েল এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা ‘মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী’। এটি ১৯৯৫ সালের চুক্তিরও লঙ্ঘন, যেখানে ইইউ ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের রূপরেখা দেওয়া আছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলকে বারবার এ পথ থেকে সরে আসার অনুরোধ জানানো হলেও তারা তা তোয়াক্কা করেনি। বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড চালুর প্রস্তাবিত ইসরায়েলি আইনের সমালোচনা করেন এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তাঁদের মতে, এটি মানবাধিকারের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘পরিকল্পিত নিপীড়ন, নির্যাতন, সহিংসতা ও বৈষম্যের’ আরেকটি বহিঃপ্রকাশ।

চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয় যে দখলকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা তীব্রতর হচ্ছে। সেখানে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পাশাপাশি বসতি স্থাপনকারীরা ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তি’ নিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। এতে বেসামরিক ব্যক্তিরা প্রাণ হারাচ্ছেন।

তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা লেখেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর পাশ কাটিয়ে থাকতে পারে না’। তাঁরা ‘সাহসী ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের’ আহ্বান জানিয়ে সব বিকল্প বিবেচনায় রাখার কথা বলেন।

এসব দেশ যুক্তি দেখিয়েছে যে ইইউ-ইসরায়েল চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। সেখানে মানবাধিকার সুরক্ষার শর্ত রয়েছে। তারা জানায়,আগের এক পর্যালোচনায় ইসরায়েলের শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে এসেছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।

এদিকে ব্রাসেলসে দাতা সংস্থাগুলোর এক সম্মেলনে কাজা কালাস জানান, গাজা পুনর্গঠনের সম্ভাব্য ব্যয় বর্তমানে ৭ হাজার ১০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ড ও স্পেন এই চুক্তি পর্যালোচনার প্রথম উদ্যোগ নিলেও ইসরায়েলপন্থী দেশগুলোর বিরোধিতায় তা ভেস্তে যায়। পরবর্তী সময়ে নেদারল্যান্ডের নেতৃত্বে এ ধরনের একটি আলোচনার উদ্যোগ সফল হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, ইসরায়েল সম্ভবত চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।

ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করার মতো পদক্ষেপগুলো আর কার্যকর করা হয়নি।

আয়ারল্যান্ড তাদের ‘অকুপায়েড টেরিটোরি বিল’ আবার সক্রিয় করতে চাইছে। এই বিল পাস হলে পশ্চিম তীরসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য ও সেবা নিষিদ্ধ করা হবে।

এদিকে জনগণের প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে স্পেন ও স্লোভেনিয়াও অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। গত বছরের আগস্টে স্লোভেনিয়া প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে দখল করা এলাকার পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে।

২০২৪ সালের মে মাসে এই তিনটি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেছিল। ‘দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান’ বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই সমন্বিত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি কী?

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জোটের বাইরের কোনো দেশের মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় আইনি কাঠামোকে বলা হয় ‘অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি’। এটি মূলত ইউরোপের সঙ্গে অন্য কোনো দেশের গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।

এই চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য হলো, ইইউর সদস্য না হয়েও কোনো দেশ যাতে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য, রাজনৈতিক সহযোগিতা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বজায় রাখতে পারে, সে সুযোগ নিশ্চিত করা।

ইসরায়েলের সঙ্গে ইইউর এই ঐতিহাসিক চুক্তি ১৯৯৫ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ২০০০ সাল থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর রয়েছে। এ চুক্তির অন্যতম বিশেষত্ব হলো, এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা পায়। তবে এর বিনিময়ে তাদের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার শর্ত মেনে চলতে হয়।

রক্তদানের নামে প্রতারণার ফাঁদ: ‘বন্ধুমহল’ এর বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ!

মানবতার সেবার আড়ালে রোগীর অসহায় পরিবারকে জিম্মি করে অর্থ আত্মসাতের এক জঘন্য চিত্র উঠে এসেছে। স্বেচ্ছায় রক্তদানের কথা বলে একশ্রেণীর অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের আবেগ ও সরলতাকে পুঁজি করে ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। সম্প্রতি ‘বন্ধুমহল’ নামক একটি সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

নিচে তাদের প্রতারণার দুটি ভয়াবহ ঘটনা তুলে ধরা হলো:
📌 ঘটনা-১: রক্ত বিক্রির চুক্তি ও অর্থ আত্মসাৎ

রক্তদানের মতো একটি মানবিক কাজকে তারা ব্যবসায় রূপান্তর করেছে। রক্ত দেওয়ার পূর্বেই রোগীর স্বজনদের সাথে ৪,০০০ টাকার একটি চুক্তি করা হয়। রক্ত দেওয়া শেষ হওয়ার পর চুক্তি মোতাবেক সেই টাকা ডোনারকে না দিয়ে সংগঠনের নাম করে নিজেদের পকেটে ঢুকানো হয় (আত্মসাৎ করা হয়)।
📌 ঘটনা-২: ডোনারের হক নষ্ট ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট

অন্য একটি ঘটনায়, রক্ত দিতে এসে রোগীর লোকের কাছ থেকে “চা-নাস্তা” খাওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। ডোনার যখন বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন বলা হয় এই টাকা নাকি তাদের সংগঠনের “ফান্ডিং”-এর জন্য নেওয়া হচ্ছে।

ডোনারের সাথে প্রতারণা: রোগীর লোকের কাছ থেকে টাকা নিলেও ডোনারকে দেওয়া হয় মাত্র এক গ্লাস লেবুর শরবত! অথচ রোগীর দেওয়া টাকা দিয়ে ডোনারকে পুষ্টিকর খাবার বা ডাব খাওয়ানো উচিত ছিল।

কমিশন বাণিজ্য: রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যখন তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, তখন এই চক্রটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দেওয়ার নাম করে অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাছ থেকে আরও ১,০০০ টাকা কমিশন হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ডোনার এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবারও “ফান্ডিং”-এর অজুহাত দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।

⚠️ আমাদের আহ্বান ও হুঁশিয়ারি

রক্তদানের মতো পবিত্র একটি কাজকে যারা কলঙ্কিত করছে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না।
“বন্ধুমহল” নামক এই চক্রটিকে সবাই বয়কট করুন। রক্তদানের নামে এই চাঁদাবাজি এবং প্রতারণা রুখে দাঁড়ান।

সচেতনতায়: মানবতায় ইনসাফ ফাউন্ডেশন

ব্রাজিলের দুঃসংবাদ, গ্রুপ পর্বে খেলতে পারছেন না নেইমার

চোটের কারণে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি নেইমার। মরক্কোর বিপক্ষে সেই ম্যাচে ১–১ ড্র করেছিল ব্রাজিল। এবার কার্লো আনচেলত্তি তাঁকে পরের দুই ম্যাচের দলেও পাচ্ছেন না। এমনকি দলের সঙ্গে থাকলেও বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কি না, এমন সংশয়ও আছে কারও কারও।

ইএসপিএন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে দলের সঙ্গে থাকা নেইমারের আবার মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি গত সপ্তাহের করা পরীক্ষাটিই। তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এখনো ওই পরীক্ষার ফল জানায়নি।

সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, নেইমারের সোমবার অনুশীলনে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে তিনি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে গেছেন। এটি নেইমারের চোট নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়াচ্ছে।

ব্রাজিলের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, দলের চিকিৎসা বিভাগ নকআউট পর্বের আগে তাঁকে পুরোপুরি ফিট করে তোলার আশা করছে। এর অর্থ হলো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি মিস করবেন নেইমার।

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোচ আনচেলত্তি নেইমারের প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘নেইমার যত দ্রুত সম্ভব সেরে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। আমাদের প্রত্যাশা, তিনি সুস্থ হয়ে আগামী সপ্তাহে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

সৌদির কথা স্মরণ করে আলজেরিয়া নিয়ে সতর্ক স্কালোনি, মরক্কোর সঙ্গে তুলনা

বিশ্বকাপ শুরুর আরও ছয়দিন পর অভিযানে নামছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে আলজেরিয়াকে নিয়ে সতর্ক অবস্থানে কোচ লিওনেল স্কালোনি। এক্ষেত্রে তিনি ২০২২ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের কথা স্মরণে রেখেছেন। একইসঙ্গে প্রথম ম্যাচে মানসিক প্রশান্তি নষ্ট হবে না বলেও আশা তার।

আগামীকাল (বুধবার) ভোর ৭টায় কানসাস সিটিতে আলজেরিয়া ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আলবিসেলেস্তে কোচ স্কালোনি বলেন, ‘সামনের সারিতে কয়েকজন দ্রুতগতির খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে তারা দুর্দান্ত দল। তাদের বিপক্ষে সতর্ক থাকতে হবে এবং সম্মান দেখানোর জন্য উপযুক্ত। তারা আমাদের কাজটা কঠিন করে তুলতে পারে।’

আলজেরিয়ার খেলার ধরনে মরক্কোর সঙ্গে মিল দেখছেন স্কালোনি। যারা চলমান আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের সঙ্গে ১-১ ড্র করেছে। এদিকে, আসন্ন ম্যাচের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়ার খেলোয়াড় এবং কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচেরও প্রশংসা করেন স্কালোনি।

বিশ্বকাপ আসর শুরুর মুহূর্তে শান্ত থাকার ওপর জোর দিয়ে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘গত বিশ্বকাপ থেকে আমরা জানি, প্রথম ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা নির্ণায়ক হয় না। আমরা মানসিকভাবে স্বস্তিতে আছি যে, প্রথম ম্যাচেই সব শেষ হয়ে যাবে না।’ কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার শুরুটা হয়েছিল হোঁচট খেয়ে। সৌদি আরবের বিপক্ষে লিওনেল মেসির পেনাল্টিতে লিড পেলেও, দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল হজমের পর হারে ২-১ ব্যবধানে।

এবারের আসর শুরুর আগেই একের পর এক চোটের খবরে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিল আর্জেন্টিনা। তবে প্রথম ম্যাচে নামার আগে অ্যাঙ্কলের চোট থেকে হুলিয়ান আলভারেজ এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের ভাঙা আঙুলের চোট সেরে প্রথম ম্যাচেই ফেরার প্রত্যাশা করছেন স্কালোনি। যদিও মাংসপেশির চোটে থাকা নিকোলাস তালিয়াফিকোকে নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের রক্ষণে ঠিকঠাক রাখার দিকে মনোযোগী আলবিসেলেস্তে তারকা নিকোলাস ওতামেন্দি। সতর্ক অবস্থানে থেকে ৩৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বলছেন, ‘আমরা জানি সবাই চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমাদের হারাতে চায়। কাতার আসরেই আমাদের সামনে উদাহরণ আছে। যেকোনো দলই সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। তাদের ভালো খেলোয়াড় আছে। সার্বিকভাবে আমাদের শক্তিশালী একটি রক্ষণ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে।

উপজেলায় প্রথম, এবার জেলা পর্যায়ে বেগম আয়েশা পাইলট

নিজস্ব প্রতিবেদক: “মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” শীর্ষক স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম (জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা)-এ উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জনের পর জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছে বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ।

ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলায় অবস্থিত বিএএফ শাহীন কলেজে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প উপস্থাপন করে। জেলা পর্যায়েও তাদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীল অংশগ্রহণ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ প্রদান করেন।

প্রতিষ্ঠানটির এ অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আরও সাফল্য অর্জন করবে।

আজ রাতে নতুন গিলাফে সাজবে পবিত্র কাবা

আরবি নববর্ষ ১৪৪৮ হিজরির প্রথম রাতেই পবিত্র কাবা শরিফে পরানো হচ্ছে নতুন গিলাফ (কিসওয়া)। আজ সোমবার (১৫ জুন) এশার নামাজের পর মক্কার মসজিদুল হারামে শুরু হবে এই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক আয়োজন, যেখানে প্রতিস্থাপিত হবে কাবার নতুন গিলাফ। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা সৌদির ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রতি হিজরি বছরের প্রথম দিন (১ মহররম) পবিত্র কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হয়।

সৌদি প্রশাসনের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, আধুনিক কারিগরি দক্ষতা ও নিখুঁত কারুকার্যের এক অনন্য মেলবন্ধনে প্রস্তুত করা হয়েছে এবারের কিসওয়া। প্রতিবছরের মতো এবারও কোটি কোটি মুসলমান এই পবিত্র আয়োজন গভীর আগ্রহের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করবেন এবং নতুন বছরের সূচনায় কাবার নতুন সাজকে স্বাগত জানাবেন।

গিলাফ প্রস্তুত করতে সময় লেগেছে ১১ মাস

অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারুকাজ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে নতুন কিসওয়া। মক্কায় অবস্থিত ‘কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য হোলি কাবা কিসওয়া’র একদল বিশেষজ্ঞ কারিগর দীর্ঘ প্রায় ১১ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই গিলাফ তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন।

নতুন কিসওয়াটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৭টি বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক রেশমের প্যানেল। এতে সোনালি ও রুপালি প্রলেপযুক্ত সুতা দিয়ে অত্যন্ত নিখুঁত এমব্রয়ডারি ও ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের ৬৮টি আয়াত খচিত রয়েছে। পুরো গিলাফটির মোট ওজন প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কেজি।

যেভাবে তৈরি হয় কিসওয়া

একটি কিসওয়ার পরিপূর্ণতা পাওয়ার পেছনে সাতটি সুনির্দিষ্ট ধাপ রয়েছে। ধাপগুলো হলো: ১. রেশম প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য পানি বিশুদ্ধকরণ। ২. রেশম সুতা ধোয়া ও সুনির্দিষ্ট রঙে রাঙানো। ৩. স্বয়ংক্রিয় তাঁতে বয়ন করে সুতাকে কাপড়ে রূপ দেওয়া। ৪. কোরআনের আয়াত ও আলংকারিক নকশা মুদ্রণ (ক্যালিগ্রাফি)। ৫. কিসওয়ার বিভিন্ন অংশ সুনির্দিষ্ট মাপে সংযুক্ত করে সেলাই। ৬. সোনা

প্রতিস্থাপনের মূল প্রক্রিয়া শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

কিসওয়া পরিবর্তনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় পবিত্র মসজিদুল হারামের ভেতরে প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত। নতুন কিসওয়ার বিভিন্ন অংশ এরই মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গিলাফের গায়ে থাকা এমব্রয়ডারি, ইসলামিক নকশা ও পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলো নিখুঁত আছে কি না, তা শেষ মুহূর্তের জন্য পরীক্ষা করে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য একটি বিশেষ কারিগরি ও প্রকৌশলী দলকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।

মূল প্রক্রিয়াটি শুরু হবে কাবা শরিফের বর্তমান গিলাফে থাকা সোনার প্রলেপ দেওয়া অলংকরণ ও এমব্রয়ডারি করা অংশগুলো সাবধানে খোলার মধ্য দিয়ে। এরপর পুরোনো গিলাফ একে একে নামিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চার কোণে নতুন কিসওয়া জুড়ে দেওয়া হবে। পুরো কাজটি একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা মেনে করা হয়, যাতে কাবার চারপাশের প্রতিটি অংশ একেবারে সমান্তরালভাবে বসে। একই রাতে কাবা শরিফকে ঘিরে থাকা এমব্রয়ডারি করা বেল্ট (হিজাম) ও কাবার দরজার ওপরের বিশেষ পর্দাটিও লাগানো হবে।

দোহারে জনগণকে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে

আল আমিন: দোহারে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে ‘সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দোহার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
দোহার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম।

কর্মশালায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের কার্যকর ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া গ্রাম আদালতের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে রাজধানীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান মহাখালী টার্মিনালের বাসের ডিপো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ক তৃতীয় দফার সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগরের দুই প্রশাসক।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যানজট পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সায়েদাবাদ, গুলিস্তান এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার অভ্যন্তরীণ যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। এই সংকট দূর করতে নগরীর ভেতর থেকে এসব টার্মিনালের বাস ডিপো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ঢাকার বাইরে বা উপযুক্ত প্রান্তিক স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।